অবশেষে বগুড়ার ৩৫ বস্তা কুচি টাকার রহস্য উন্মোচন।

বগুড়ার শাজাহানপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা ৩৫ বস্তা ছেঁড়া টাকাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের। টুকরো করা নোটগুলো বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখায় রাখা টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে না ফেলে ট্রাকের চালক ভুল করে শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে যায়। ফলে মঙ্গলবার দিনব্যাপী টাকার টুকরো নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যায়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখা, বগুড়া পৌরসভা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার জড় সামগ্রী বিভাগের যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান বলেন, ওই শাখায় প্রতিদিন বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য তিন লাখ পিস নোট (৫০ থেকে এক হাজার টাকা) ….. করা হয়। আগে সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হত। কিন্তু তাতে পরিবেশ দূষিত হয় বলে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এজন্য সেগুলো বর্জ্য হিসেবে পৌরসভার মাধ্যমে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

আর সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে একটি ডাস্টবিন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে চলতি বছরের ২০ আগস্ট বগুড়া পৌরসভার মেয়রকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তবে বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা চত্বরে এখন পর্যন্ত কোন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে টাকার টুকরো ভর্তি অর্ধশত বস্তা শাখা চত্বরেই পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকটি বস্তা পৌরসভার কর্মীরা রবিবার বর্জ্য অপসারণের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এই শহরে বর্জ্য অপসারণের পদ্ধতিটি একটু আলাদা। বগুড়া পৌরসভায় কোথাও ডাস্টবিন রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে পৌরসভার মহল্লাভিত্তিক সমিতির (সিবিও) নিয়োজিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত স্থানে (ডাম্পিং স্টেশন) ফেলে দেয়।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, শহরের বাসা-বাড়িসহ সম্ভাব্য সব এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যগুলো ফেলার নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাঘোপাড়া এলাকায়। বর্জ্য ফেলানোর নির্ধারিত স্থান বাঘোপাড়ার পরিবর্তে কেন অন্যত্র ফেলানো হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশিদ বলেন, বর্জ্যবাহী ট্রাকের চালকের ভুলের কারণে এটি হয়েছে।

মাসুম নামে ওই চালককে বলা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলতে। কিন্তু তিনি ভুল করে সেগুলো তার বাড়ির কাছে শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে যান। অবশ্য ব্যাংক চত্বরে আরও যে বিপুল সংখ্যক বস্তা রয়েছে সেগুলো যথারীতি বাঘোপাড়ায় ডাম্পিং স্টেশনেই ফেলা হবে।

এ ব্যাপারে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে যারা অন্যত্র বর্জ্য (…. ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শাখার সকল কর্মচারি এবং অভিযুক্ত ট্রাক চালককে বুধবার শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

About redianbd

Check Also

ব্রেকিং : এইমাত্র মোদির আগমন ঠেকাতে জুতা হাতে বিমানবন্দরে থাকবে হেফাজত

দিল্লিতে মুসলিম হ`ত্যা, নি`র্যাতনের প্রতিবাদে মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন প্রতিহত করতে ফেনীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.