কিডনির পাথর থেকে বাঁচতে হলে শুধু ২টি কাজ করবেন!

আমাদের দেহের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ কিডনি। এছাড়াও শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমে। কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কিডনিতে পাথর হওয়া।

কিন্তু ঠিক কি কি কারণে কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করতে পারবেন, জানেন কি? আসুন জেনে নেয়া যাক কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে, যা হয়তো আপনার জানা নেই।

কাচা লবন খাবেন না’ অনেকেই খাবারে লবণ খান যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ লবণের সোডিয়াম খুব সহজে কিডনি দূর করতে পারে না এবং তা জমা হতে থাকে কিডনিতে। এছাড়াও অতিরিক্ত সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের কারণেও কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে। পানি পান করুন কিডনির কাজ হচ্ছে দেহের বর্জ্য ছেঁকে দেহকে টক্সিনমুক্ত করা।

আর এই কাজটি কিডনি করে পানির সহায়তায়। যদি আপনি পানি পরিমিত পান না করেন তাহলে কিডনি সঠিকভাবে দেহের বর্জ্য দূর করতে পারে না যা কিডনিতে জমা হতে থাকে পাথর হিসেবে। সুতরাং পরিমিত পানি পান করুন।

সকাল শুরু করতে হবে যত স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে

সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। সকালে খালি পেটে ভারি খাবার খেলে উল্টো বদহজম হওয়ারই ঝুঁকি থাকে। দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো সকালের নাশতা। এই খাবারের অন্তত দুই ঘণ্টা পর আপনি ভারি খাবার দিয়ে নাশতা করতে পারেন। জেনে নিন, সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর কী খাবার খেতে পারেন আপনি-

১) খেজুর
দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর খুবই কাজে আসে। এতে অনেকটা ফাইবারও থাকে যা হজমে সহায়তা করে। খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকরী। ডায়রিয়া ও পেট খারাপে খেজুর খাওয়া ভালো, কারণ এতে থাকে অনেকটা পটাসিয়াম।

২) কাঠবাদাম
রাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড বা কাঠবাদাম খেলে অনেক বেশি ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায়। ৫-১০টি কাঠবাদাম খেতে পারেন সকালে খালি পেটে। এ সময়ে ওপরের বাদামি খোসাটা ফেলে দিয়ে খান।

৩) আমলকী
সকালে খালি পেটে টাটকা আমলকীর জুস পান করতে পারেন। তবে এরপর ৪৫ মিনিট ধরে চা বা কফি পান যাবে না। এতে যেমন অনেক ভিটামিন সি আছে তেমনি তা আয়ু বাড়াতেও কাজ করে। তা ত্বক পরিষ্কার করে, চুল সুস্থ রাখে ও চোখ ভালো রাখে।

৪) পেঁপে
খালিপেটে পেঁপে খাওয়া ভালো কারণ তা পেট পরিষ্কার করে ও হজমে সহায়তা করে। পেঁপে খাওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। তা কোলেস্টেরল কমাতেও কাজে আসে।

৫) মধুর সঙ্গে হালকা গরম পানি
প্রতিদিন সকালে মধু খেলে ওজন কমে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে যকৃৎ পরিষ্কার থাকে। মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, ভিটামিন ও এনজাইম, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

৬. তরমুজ
এই ফলটি শুধুমাত্র খালি পেটেই খাওয়া উচিত। তরমুজ খাওয়ার সেরা সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর। তরমুজে ক্যালোরি কম এবং ইলেকট্রোলাইটস বেশি। গ্রীষ্মের সকালে এই ফলটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৭. তেতো ঘি
তেতো স্বাদের যে কোনো ভেষজ দেহকে প্রশমিত ও পরিষ্কার করে এবং জীবাণু নাশক হিসেব কাজ করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সঙ্গে ১ চা চামচ তেতো ঘি খেতে পারেন। তবে এটি খাওয়ার পর অন্তত আধা ঘণ্টা আর কিছু খাওয়া যাবে না। তেতো ঘি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ করতেও সহায়ক।

৮. খেজুর
খেজু্র তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে সবার সেরা। যা দিন শুরু করার জন্য জরুরি। খেজুরে আছে সহজে দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। কেননা তা পাকস্থলিতে প্রচুর পানি শুষে নেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও খেজুর বেশ কার্যকর। পাকস্থলির অস্বস্তিভাব দূর করতে এবং ডায়রিয়া নিরাময়েও খেজুরে থাকা পটাশিয়াম সহায়তা করে।

একটি অভ্যাসও আপনার স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালের এই সহজ অভ্যাস আপনাকে সারাদিন ধরেই রাখবে সক্রিয় এবং সতেজ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনের শুরুতে হালকা গরম পানি পান করা বা হালকা জল খাবার খাওয়ার মাধ্যমে খাওয়া-দাওয়া শুরু করলে পাকস্থলীর বিপাকীয় প্রক্রিয়া ভালো থাকে।

About redianbd

Check Also

আপনার ৫ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুর যত্নের জন্য দরকারী কিছু পরামর্শ।

যতক্ষণ না আপনার বাচ্চা একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে, ততক্ষণ তার সমস্ত প্রয়োজনীয় যত্ন দরকার হবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.