ভারত থেকে ধেয়ে আসছে পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

ফারাক্কা বাঁধের সব লকগেট খুলে দেয়ায় বাংলাদেশে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ভারতে অতিবৃষ্টি ও প্রবল বন্যার কারণে দেশের গঙ্গা-পদ্মা নদী অঞ্চলে আবারো বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার ফারাক্কা বাঁধের সব লকগেট খুলে দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে পদ্মা ছাড়াও ভারতের মালদা জেলার প্রায় সমস্ত নদীতে পানি বাড়ছে। এতে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পাউবো কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় গঙ্গার পানি চলে আসছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে। ফলে রাজশাহীতে পদ্মায় পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৮ দশমিক ৫০ মিটারের কাছাকাছি চলে এসেছে।রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সহিদুল আলম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় প্রবাহ বেড়েছে ১১ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রবাহ বেড়েছিল ৬ মিটারের মতো। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে বৃষ্টিপাতের কারণে প্রবাহ বাড়তে পারে।

তিনি জানান, এর আগে আগামী ৩ অক্টোবর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন যেভাবে পানিপ্রবাহ বাড়ছে তাতে একদিন আগেই তা বিপৎসীমায় পৌঁছে যেতে পারে।তবে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এই পাউবো কর্মকর্তা।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, দেশটির উত্তর প্রদেশ ও বিহারে গত কয়েক দিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এতে উপচে পড়ছে পানি। এ কারণেই ফারাক্কা বাঁধের সব গেট একসঙ্গে খুলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের অন্তবর্তী পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে ভারতে অতিবৃষ্টি ও প্রবল বন্যার কারণে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীঅঞ্চল আর এক দফা বন্যার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদী অববাহিকায় উজানে ভারতে অতিবৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। উজান থেকে অবিরাম ঢলের পানি নেমে আসছে বাংলাদশে। এ কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বৃহত্তর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও এর আশপাশ অঞ্চল বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পদ্মার ভাটিতে মধ্যাঞ্চলেও রয়েছে বন্যায় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। তবে এ বন্যা হতে পারে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গার উৎস বা উজানের অববাহিকায় বিশেষত উত্তর প্রদেশ, বিহার ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ঢল-বানের পানিতে গঙ্গা নদী ফুলে-ফুঁসে উঠেছে। আর সেই ঢল গড়িয়ে আসছে গঙ্গা-পদ্মায় বাংলাদেশের ভাটির দিকে। এ অবস্থায় অক্টোবরের শুরুতেই গঙ্গা-পদ্মা পাড়ে বন্যার আশঙ্কা এ মুহূর্তে বেড়ে গেছে।

ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেয়ার পাউবো জানিয়েছে, ভারত উজানে বানের পানির চাপ সামাল দিতে গিয়ে নিজের স্বার্থেই যদি গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধের গেইট-স্পিলওয়েগুলো খুলে দেয় তখন ভাটিতে বাংলাদেশের দিকে তীব্রবেগে নামবে ঢল-বানের পানি।

এর ফলে চলতি সপ্তাহে গঙ্গা নদী সংলগ্ন দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কতিপয় স্থানে মাঝারি মাত্রার স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পদ্মা নদী গোয়ালন্দ ও ভাগ্যকুল পয়েন্টে এবং পদ্মা সংলগ্ন যমুনার আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এরফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পদ্মা নদী সংলগ্ন দেশের মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলাসমূহের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি চলবে আগামী কয়েকদিন। চলতি মাসের শেষ এবং আগামী মাসের শুরুর পুরো সপ্তাহ জুড়েই থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। কোথাও ভারী আবার কোথাও হালকা পরিমাণে বৃষ্টি হবে।

About redianbd

Check Also

ব্রেকিং : এইমাত্র মোদির আগমন ঠেকাতে জুতা হাতে বিমানবন্দরে থাকবে হেফাজত

দিল্লিতে মুসলিম হ`ত্যা, নি`র্যাতনের প্রতিবাদে মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন প্রতিহত করতে ফেনীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.