এই একটি ফলে মারা যায় মরণব্যাধি ক্যান্সারের জীবাণু, কমায় চুল পড়া!

জাম্বুরা এক প্রকার লেবু জাতীয় টক-মিষ্টি ফল। এটি একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। এর পুষ্টিমানও অনেক বেশি। বিভিন্ন দেশে এ ফলটি পমেলো, জাবং, শ্যাডক ইত্যাদি নামে পরিচিত।

কাঁচা ফলের বাইরের দিকটা সবুজ এবং পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের হয়। এর ভেতরের কোয়াগুলো সাদা বা গোলাপী রঙের। এ ফলের আদিভূমি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাম্বুরা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি রয়েছে এর পুষ্টিগুণ। বাতাবি লেবুতে আছে বায়োফ্লভনয়েড যা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। আর এতে বিদ্যমান ভিটামিন সি রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়। গর্ভস্থ নারী, স্তন্যদানকারী মা ও সন্তান নিতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য বাতাবি লেবু যথেষ্ট উপকারী।

তাছাড়া অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় বাতাবি লেবু বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। বাতাবি লেবুর রস শরীরের বাড়তি আমিষ ও চর্বিকে ভেঙে ওজন কমাতে সাহায্য করে। খাবার হজমের জন্য হজমকারী এনজাইম হিসেবে কাজ করে বাতাবি লেবুর রস।

এছাড়া জাম্বুরার আর কী কী গুণ রয়েছে নিম্নে তা জানানো হল :

ক্যান্সার প্রতিহত করে: জাম্বুরা মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো রোগকে প্রতিহত করে। এ ফলে লিমোনোয়েড নামে এক ধরনের উপকরণ রয়েছে যা ক্যান্সারের জীবাণুকে মেরে ফেলে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়: জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এ কারণে যাদের এই সমস্যা আছে তাদের বেশি করে জাম্বুরা খেতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: জাম্বুরাকে ডায়াবেটিসের মহৌষধ বলে ধরা করা হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জাম্বুরার রস বেশ কার্যকর।
রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ বাড়ায়: জাম্বুরার রস রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

দাঁত, ত্বক ও চুলের পুষ্টি: জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও বি আছে। যা হাড়, দাঁত, ত্বক ও চুলে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। কাজেই চুল পড়া কমাতে বেশি করে জাম্বুরা খেতে পারেন।

জন্ডিসের যম পাথরকুচি পাতা, যেভাবে ব্যবহার করবেন

পাতা থেকে গাছ হয়! এমনি এক আশ্চর্য গাছের নাম পাথরকুচি। এই আশ্চর্য গাছের গুণাবলী শুনলে আপনিও আশ্চর্য হয়ে যাবেন। পাথরকুচি পাতা যে কতভাবে আমাদের শরীরের উপকার করে থাকে তার ইয়ত্তা নেই।

কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা : পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলব্লাডারের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুই বার ২ থেকে ৩ টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান।

জন্ডিস নিরাময়ে : লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

সর্দি সারাতে : অনেক দিন ধরে যারা সর্দির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পাথরকুচি পাতা অমৃতস্বরূপ।

পাথরকুচি পাতার রস একটু গরম করে খেলে সর্দির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ক্ষত স্থান সারাতে : পাথরকুচি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করলে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে যায়। পাথরকুচি পাতা বেটেও কাটাস্থানে লাগাতে পারেন।

এছাড়াও- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়। শরীরের জ্বালা-পোড়া বা আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করে। পাথরকুচি পাতা বেটে কয়েক ফোঁটা রস কানের ভেতর দিলে কানের যন্ত্রণা কমে যায়। কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয় রোগ সারাতে পাথরকুচি পাতার জুড়ি নেই।

৩ মি.লি. পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়। পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্‌ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ত্বকের যত্নে : পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে অনেক সচেতন তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

About redianbd

Check Also

আপনার ৫ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুর যত্নের জন্য দরকারী কিছু পরামর্শ।

যতক্ষণ না আপনার বাচ্চা একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে, ততক্ষণ তার সমস্ত প্রয়োজনীয় যত্ন দরকার হবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.