টিউশনি করে বুয়েটে পড়ছিলেন আবরার হ’ত্যার আ’সামি শামীম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৪ নম্বর আ’সামি শামীম বিল্লাহর বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। তিনি উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের আমিনুর রহমান বাবলুর বড় ছেলে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাকে ভুরুলিয়ার খানপুর গ্রাম থেকে গ্রে’ফতার করে ডিবি পুলিশ।

ছাত্রলীগ নেতা শামীম বিল্লাহ বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা আবাসিক হলের ২০০৪ কক্ষে থাকতেন।

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য সবুর কাগুজি জাগো নিউজকে জানান, পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও শামীম বুয়েটে গিয়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ছোট বেলা থেকেই তিনি মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। তার বাবা আমিনুর রহমান বাবলু ঢাকা-কালীগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী রোজিনা পরিবহনের ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করেন।

তিনি আরও জানান, শামীমের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। সবমিলিয়ে পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে তাদের। তবে শামীম ছোট বেলা থেকেই ছিল খুব মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাবা রোজিনা পরিবহনের চালক। তারা দুই ভাই বোন। শামীম বুয়েটে পড়েন আর ছোট বোন শারমিন আক্তার শ্যামনগর মহসিন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

ইউপি সদস্য সবুর কাগুজি বলেন, শামীম ঢাকায় দুটি টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালাতেন। সপ্তাহ খানেক আগে প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। ছোট বেলা থেকে খুব শান্ত প্রকৃতির ছিলেন শামীম। কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে বলে শুনিনি। তার পরিবার রাজনীতির সঙ্গে সেভাবে জড়িত না থাকলেও শামীম বুয়েটে গিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এদিকে শামীম গ্রে’ফতারের পর তা মা সালিমা খাতুন অচেতন হয়ে পড়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাবা আমিনুর রহমান বাবলু বাড়িতে নেই। তার ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

শামীমের দাদা আতিয়ার রহমান সরদার জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের পরিবারের কেউ রাজনীতি করে না। শামীম বুয়েটের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত ৯ তারিখ রাতে শামীম ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে। সে জানায়- বুয়েটে ছাত্রলীগের বড় ভাইয়েরা আবরারকে মে’রেছে।

তিনি বলেন, বুয়েটে ছাত্রলীগের বড় ভাইদের সঙ্গে মিশতো শামীম। ছাত্রলীগের বড় ভাইয়েরা আবরারকে মে’রেছে। শামীমকে ডেকে নিয়েছিল তারা। শামীম মরদে’হ ধরেছিল, ওকে (আবরার) মা’রেনি।.

শামীমের দাদা বলেন, আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি আমিও চাই। একই সঙ্গে এটাও চাই যেন নিরাপরাধ কেউ শাস্তি না পায়।

শ্যামনগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের খানপুর গ্রাম থেকে আবরার হ’ত্যা মামলার আ’সামি শামীম বিল্লাহকে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ আ’টক করেছে। আ’টকের পর তারা তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় শ্যামনগর থানা পুলিশ তাদের সঙ্গে ছিল না।

About redianbd

Check Also

ব্রেকিং : এইমাত্র মোদির আগমন ঠেকাতে জুতা হাতে বিমানবন্দরে থাকবে হেফাজত

দিল্লিতে মুসলিম হ`ত্যা, নি`র্যাতনের প্রতিবাদে মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন প্রতিহত করতে ফেনীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.