জিহ্বা সাদা হওয়ার কারণ ও তার প্রতিরোধ

জিহ্বা সাদা হলে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। হয়তো অসুখটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আপনি জানেন না বা আপনার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না।

সাদা জিহ্বা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার হতে পারে। জিহ্বার প্যাপিলার প্রদাহের কারণে সাদা জিহ্বার সৃষ্টি হয়। সূক্ষ্ম খাদ্যকণা, ব্যাকটেরিয়া এবং মৃত কোষ প্রদাহজনিত প্যাপিলাতে আবদ্ধ হয়ে সাদা আবরণ সৃষ্টি করে থাকে।

অনেক কারণে জিহ্বায় প্যাপিলার প্রদাহ হতে পারে। যেমন- ধূমপান, মদ্যপান, মৃদু ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে প্যাপিলার প্রদাহ হয়ে সাদা জিহ্বা সৃষ্টি হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেই মাঝে মাঝে সাদা জিহ্বা দেখতে পান। ঠাণ্ডাজনিত কোনো অসুখ বা অ্যালার্জির কারণে এমন হতে পারে। আবার ক্রমাগত রাতের বেলায় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

সাধারণভাবে সাদা জিহ্বার এ অবস্থার অবসানে যা করণীয়

ক. জিহ্বা ব্রাশ করতে হবে।

খ. ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

গ. প্রচুর পানি পান করতে হবে।

ঘ. আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

সাধারণ কারণ ছাড়াও বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে জিহ্বা সাদা হতে পারে। সেগুলো হল :

১. ক্যান্ডিডোসিস

২. ক্রনিক অসুস্থতা বা সব সময় অসুস্থ থাকা

৩. এপস্টেন বা ভাইরাস

৪. হেয়ারী টাং বা জিহ্বা

৫. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যা বা এইডস্ হলে

৬. লিউকোপ্লাকিয়া

৭. ডায়রিয়ায় পানি শূন্যতা বেশি হলে

৮. অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহারের কারণে।

ধূমপান বা এলকোহল সেবন না করলেও জিহ্বার রং সাদা হতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর ক্রনিক ওরাল থ্রাশ থাকতে পারে। ক্রনিক ওরাল থ্রাশ হলে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ না করলে সমস্যা থেকেই যাবে। এছাড়া যেসব ওষুধ সেবনের কারণে শুষ্ক মুখ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে জিহ্বা সাদা হতে পারে।

ওষুধ সেবন শেষ হয়ে গেলে জিহ্বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সাধারণ কারণ ছাড়া জিহ্বা সাদা হলে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। হয়তো অসুখটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আপনি জানেন না বা আপনার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই কোনো কিছুকে অবেহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে মুখের অভ্যন্তরে সাদা সংক্রমণে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। মুখের অভ্যন্তরে সাদা সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন করে তুলন। আর হ্যাঁ কোনো অবস্থাতেই মুখস্থ কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।

About redianbd

Check Also

আপনার ৫ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুর যত্নের জন্য দরকারী কিছু পরামর্শ।

যতক্ষণ না আপনার বাচ্চা একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে, ততক্ষণ তার সমস্ত প্রয়োজনীয় যত্ন দরকার হবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.