শরীরে প্রচুর বিষ জমলে যে ৮টি লক্ষণ দেখা দেয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের শরীরে রোজ ক্ষতিকারক বিষ প্রবেশ করছে, অবাধে। কখনও আমরা অজান্তেই তা শরীরে প্রবেশ করাচ্ছি। আবার কখনও জেনেশুনে বিপদ ডেকে আনছি।

তা আপনি জেনেই করুন বা না জেনে, বিষ আপনাকে প্রত্যহ ‘পান’ করতেই হচ্ছে। শরীরে অত্যাধিক বিষ জমা হলে, তা শরীরই জানান দেয়। কী দেখে বুঝবেন আপনার শরীরেও জমে রয়েছে প্রচুর বিষ, জানাচ্ছি আমরা।

১. সীমাহীন ক্লান্তি

আপনি সবসময়ই ক্লান্ত। কাজ করুন আর নাই করুন, শত বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্তির যেন শেষ নেই। শরীর অতিরিক্ত চাপে থাকার লক্ষণ হতে পারে এটি, যা বেশ আশঙ্কাজনক ব্যাপার। সীমাহীন ক্লান্তির প্রধান কারণ হল ‘অ্যাড্রেনালাইন’ গ্রন্থি, যা এই চাপের সময়ে প্রয়োজনীয় হরমোন সরবরাহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। হরমোন সরবরাহের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একসময় গ্রন্থিগুলোও ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই এসময় শান্ত হয়ে শরীরের বিশুদ্ধিকরণের দায় নিজেকে নিতে হবে।

২. অল্পতেই রোগাক্রান্ত

সামান্য এলোমেলো হলেই যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে গেছে। তাই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু সহজেই আক্রমণ করতে পারছে। এসময় প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর না হলে তার পরিণামে ভুগতে হয় অন্ত্রকে এবং পরিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, জাঁকিয়ে বসে রোগবালাই।

৩. অনিয়ন্ত্রিত মেজাজ

প্রচুর কাজের চাপে থাকতে থাকতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, পান থেকে চুল খসলেই মেজাজ উঠে সপ্তমে। কাজের প্রচুর চাপ থাকলে শরীর এবং মন এই চাপ সবার আগে অনুভব করে। এর সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য শরীর তৈরি করে মন খুশি করার হরমোন ‘ডোপামিন’ যা ‘হ্যাপি হরমন’ হিসেবেও পরিচিত। তবে অনেক সময় এই হরমোনের মাত্রা মানসিক চাপ মোকাবিলায় পরিমাণে কম হয়ে যায়। এসময় মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন, যা নিরাময় করা আরও জটিল।

৪. দূর্বল স্মৃতি ও মনোযোগের অভাব

বয়সের বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে, এটা অত্যন্ত সহজ সমীকরণ। তবে শরীরে প্রচুর বিষাক্ত উপাদান থাকলে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রক্তে বিষাক্ত উপাদান জমে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে গিয়ে পৌঁছায়। এমনটা হলে মস্তিষ্কের ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

৫. ঘুমের সমস্যা

শরীরের বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে গেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে ঘুমের উপরও। এই অতিরিক্ত বিষাক্ত উপাদান শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নষ্ট করে, ফলে সহজে ঘুম আসে না। আরও বাজে ব্যাপার হল এই বিষাক্ত উপাদানের কারণে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অসময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণে দেখা ‍দিতে আরও মারাত্বক সমস্যা।

৬. ত্বকের সমস্যা

শরীরে বিষাক্ত উপাদান বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব বেশিরভাগ সময় ত্বকের উপরেই পড়তে দেখা যায়। ত্বকের বিভিন্ন প্রদাহ, অ্যালার্জি, ব্রণ ইত্যাদি দেখা দেয় এবং সেগুলো সারতেও সময় লাগে বেশি। আবার খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর না হলে ‘কার্বোহাইড্রেইট’ এবং চর্বি খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই ত্বকের সমস্যা দূর করতে খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনতে হবে।

৭. খাওয়ার ইচ্ছা

ক্ষুধার জন্যই যে কিছু খেতে ইচ্ছে করবে- ব্যাপারটা অত সরল নয় সবসময়। মস্তিষ্ক বিশেষ কিছু খেতে ইঙ্গিত করছে, তবে তা খেলে ক্ষুধা নিবারণ হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই প্রায়ই যদি ‘কিছু’ খেতে ইচ্ছে করে তবে শরীর বিশুদ্ধিকরণ প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

৮. শারীরিক দুর্গন্ধ

শরীরে প্রচুর বিষাক্ত উপাদান থাকলে দুর্গন্ধ হতে পারে। শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের হলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। তবে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা অতিরিক্ত হলে ঘাম বেশি হবে এবং দুর্গন্ধও বেশি হবে।

About redianbd

Check Also

আপনার ৫ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুর যত্নের জন্য দরকারী কিছু পরামর্শ।

যতক্ষণ না আপনার বাচ্চা একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে, ততক্ষণ তার সমস্ত প্রয়োজনীয় যত্ন দরকার হবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.