টঙ্গীর ঝর্ণা ইসলামের বাড়িতে ছুটে গেলেন নেদারল্যান্ডসের রানি

নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে নারী উদ্যোক্তা ঝর্ণা ইসলামের ‘ঝর্ণা ফেব্রিকস অ্যান্ড ফ্যাশন হাউস’ পরিদর্শন করেছেন। বুধবার বিকেলে টঙ্গীর দত্তপাড়ায় ঝর্ণা ইসলামের বাড়িতে তার ফ্যাশন হাউস পরিদর্শনে করেন তিনি। এ সময় ঝর্ণা ইসলাম ডাচ রানিকে স্বাগত জানান। পরে রানি ম্যাক্সিমা ঝর্ণা ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ফ্যাশন হাউস সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

পরিদর্শনকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামসহ ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঝর্ণা ফেব্রিক্স ও ফ্যাশনের মালিক ঝর্ণা ইসলাম বলেন, নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা কারখানার পরিবেশ ও আমার সফলতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি আমাকে একটি বিল্ডিংয়ের ফ্লোর ভাড়া নিতে বলেন এবং কাপড় তৈরি করতে যা যা লাগে সেসব কিছু দেয়ার আশ্বাস দেন। আমার সফলতাকে সাধুবাদও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে রানির আগমন উপলক্ষে পুরো টঙ্গী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ টঙ্গীর প্রতিটি সংযোগ সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যা*বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মাসুদের পা ধরে কেঁদেছি, তবুও রেহাই পাইনি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কলেজছাত্রী ধ*র্ষণ মামলার আসামি জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারীকে আবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে শরীয়তপুর আদালতে হাজির হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।

মামলার আটদিনের মাথায় ৮ জুলাই একই আদালতের একজন ভারপ্রাপ্ত নারী বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ ব্যাপারীকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।

এরপর মেয়রপুত্র মাসুদের জামিন পাওয়া নিয়ে শরীয়তপুরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুঁসে ওঠে শরীয়তপুরের সুশীল সমাজ।

বুধবার (১০ জুলাই) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে মাসুদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম ও তার মা-বাবা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, ধ*র্ষণ মামলার আসামিকে ওই দিন জামিন দেয়ার বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু আদালত তা আমলে নেন নি। তখন আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ অসহায় হয়ে পড়ে। গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে দ্রুত সময়ে জামিন দেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার মাসুদ আদালতে হাজির হলে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। তখন দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক জামিন বাতিল করে মাসুদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন রাতে ওই কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। জাজিরার মুলনা ইউনিয়নের একটি গ্রামে তাদের বাড়ি। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে কাজ করেন। জাজিরা পৌর এলাকার আক্কেল মাহমুদ মুন্সিকান্দি মহল্লার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারী (৩১) কলেজছাত্রীর দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। ২৯ জুন বিকেলে মাসুদ তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে। ওই ছাত্রী রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাসুদের বাড়িতে যান। সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে ওই ছাত্রী ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তখন মাসুদ তাকে ঘরে আটকে রাখেন। এরপর দুই দফা তাকে …. করা হয়। …. পর শ্বাসরোধ করে ওই ছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। মাসুদের বাড়ি থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে ওই মহল্লার কয়েকজন নারী তাকে উদ্ধার করেন। তার পরিবারের সদস্যরা রাত ১০টার দিকে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। রাতেই তাকে বাড়ি নেয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ৩০ জুন দুপুরে জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ….. অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রী।

পুলিশ ১ জুলাই মাসুদ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ৭ জুলাই তার জামিনের আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নব আক্তার ইতি পরদিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিস আপিল করেন। তিনি ওই দিনই আরেক আবেদনে আসামিরা জামিন প্রার্থনা করেন। জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরি জামিন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুদ ব্যাপারী আদালতে হাজির হয়। পরে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ তাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্রী বলেন, মাসুদ আমার আত্মীয় হন। তারপরও …. করতে পিছপা হননি। আমি তার (মাসুদ) পায়ে ধরে কেঁদেছি, তারপরও রেহাই পাইনি। মামলা করার পর থেকেই চাপে রয়েছি। এরই মধ্যে মাসুদ জামিন পেয়ে যায়। এতে আমার শঙ্কা বেড়ে যায়। আমাকে মেরে ফেলে কি-না তা নিয়ে আমি হুমকিতে আছি। তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর ফলে কিছুটা শঙ্কামুক্ত আছি। আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই।

এ ব্যাপারে পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের শরীয়তপুরের সদস্য সচিব অমলা দাস বলেন, ভয়ঙ্কর একটি অপরাধের মামলার আসামি দ্রুত সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হওয়া লজ্জা ও শঙ্কার বিষয়। এতে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। অপরাধী মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ পায়, সমাজে অবরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

About redianbd

Check Also

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও সুস্বাদু ফল ইউবারি মেলন

জাপানে এক সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। যার নাম ইউবারি মেলন ( তরমুজ )। এ ফল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.