কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করেন ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

এসআই মোস্তাফিজ বলেন, রাতের ডিউটি শেষে আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে ভোর ৫টায় ফোর্স নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি সড়কের বিপরীত দিকে আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর কিছু একটাকে নিয়ে টানাটানি করছিল। এগিয়ে দেখি একটি সদ্যোজাত শিশু। হাত পা নাড়াচাড়া করছিল আর কাঁদছিল। কুকুরগুলো তাকে নিয়ে টানাটানি করছে।

তিনি বলেন, সময়ক্ষেপণ না করে আমি তখন রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর সাহায্য নিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করি। রাস্তার একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান (টং) থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটার শরীরে জড়িয়ে নিয়ে দ্রুত আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পরামর্শ দেন।

মোস্তাফিজ আরও বলেন, চমেক হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাদামতলী মোড়ে জনতা ব্যাংকের সামনে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখি।

এরপর স্থানীয়রা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এখানে রাস্তায় থাকেন। নাম জিজ্ঞেস করতে ওই নারী জানায়- তার নাম আয়েশা। কিন্তু আর কিছু বলতে পারছে না। তার শরীর রক্তাক্ত দেখে বুঝলাম এটাই প্রসূতি।

উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আনুমানিক ২৫-২৭ বছর বয়সী ওই নারীকে বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতেই শুধু রাস্তার উল্টো দিকে দেখাচ্ছিলেন। যেখানে বাচ্চাটিকে কুকুরগুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। তখন আমি ধারণা করে নিলাম উদ্ধার হওয়া ফুটফুটে নবজাতকটির মা এই নারী।

পুলিশের এই সদস্য আরও জানান, ওই নারীসহ শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান বাচ্চাটি সুস্থ আছে। আর নারীটিকে ৩৩নং গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

এসআই মোস্তাফিজ বলেন, আমার বার বার চোখে ভেসে উঠছে নবজাতকের গায়ে লেগে থাকা নাড়ি নিয়ে টানাটানি করছি কুকুরগুলো। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নবজাতকটির গায়ে কুকুরের একটি আচঁড় বা কামড় লাগেনি। এতেই শান্তি পেলাম যে ফুটফুটে বাচ্চাটি ভালো আছে, তার মাও সুস্থ আছে।

এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান বলেন, এক পুলিশ সদস্য শুধু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা নয় জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশ সবসময় যে আছে তার প্রমাণ দিয়েছে এসআই মোস্তাফিজ।

সহকারী কমিশনার বলেন, আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর কিছু একটাকে নিয়ে টানাটানি করছিল এটা তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে বাচ্চা এবং পরে প্রসূতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। মানবতা যেখানে বিপন্ন সেখানে এই পুলিশ সদস্য সত্যিকারের দেবদূত হয়ে দুটি প্রাণকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন নিঃস্বার্থভাবে।

এদিকে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, বাচ্চাটিকে বুকের দুধ দিচ্ছেন ৩৩ নং ওয়ার্ডের এক নারী। যেহেতু নারীটি মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি ওয়ার্ডে হাঁটাহাঁটি করছেন। বাচ্চাটিকে দুধ দেওয়া প্রয়োজন। তাই ওয়ার্ডে আরেক প্রসূতি নারী ওই নবজাতকটিকে দেখভালও করছেন।

About redianbd

Check Also

ব্রেকিং : এইমাত্র মোদির আগমন ঠেকাতে জুতা হাতে বিমানবন্দরে থাকবে হেফাজত

দিল্লিতে মুসলিম হ`ত্যা, নি`র্যাতনের প্রতিবাদে মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন প্রতিহত করতে ফেনীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.